দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ এএম
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পাঙাশও ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেড়েছে দাম। প্রকারভেদে প্রতি কেজি মাছের দাম ৩০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাস ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা থেকে ১১০০, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ওজনের উপর ইলিশের দাম নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা সোহাগ। তিনি বলেন, ১ কেজির বেশি ওজনেরগুলোর কেজি ৩০০০ টাকার ওপরে। অন্যদিকে নদীর বেলে মাছের কেজি ৫০০ টাকা ও দেশি টেংরা ৬০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া, বৈরী আবহাওয়া এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে মাছের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
বাজারে মাছ কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘আগে যে মাছ ৩০০ টাকায় কিনেছি, এখন সে মাছ ৪৫০ টাকা চাইছে। এভাবে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাবে।’
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে সরবরাহ সংকট থাকায় বাজারে উচ্চ দামের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। একশো ছোঁয়নি এমন সবজি এখন হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়স; যা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাকি সবজির মধ্যে ২ বা ৩ রকমের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে রয়েছে।
বাজারে প্রতি কেজি বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করোলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া পেঁপে প্রতি কেজি ১০০ টাকা, পটোল প্রতি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং জালি প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে বাজারে দেখলাম অতিরিক্ত দামে সব সবজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, দুই এক রকমের সবজি তাও ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস মুরগির দাম তো বেশিই, এর মধ্যে যদি সবজিরও দাম এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষ কী খাবে? কল্পনা করা যায়, একটি সবজির আইটেমের কেজি ১০০ টাকা! আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও, এখন কিনতেছি আধা কেজি বা আড়াইশো গ্রাম। বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, সবজির বাজারে কোন মনিটরিং কখনো দেখলাম না। যদি মনিটরিং হতো তাহলে অন্তত যে যার মতো করে এতটা দাম বাড়িয়ে রাখতে পারত না।
সবজির বাড়তি দামের বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেল কিছুদিন যাবৎ সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হলো পরিবহন খরচ বেড়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় সবজি আনতে অতিরিক্ত টাকা লাগছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সব মিলিয়ে ঢাকার বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেড়ে গেছে।
রাজধানীর মগবাজার এলাকার আরেক সবজি বিক্রেতা জাহিদুর রহমান বলেন, সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদের ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা ১ কেজি সবজি কিনতেন, সেখানে এখন আধা কেজি, আড়াইশো গ্রাম করে সবজি কিনছেন। এক আইটেমের সবজি আগে যদি ২০ কেজি আনতাম, এখন আমি ১০ কেজি। সব মিলিয়ে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদেরও ব্যবসা, বিক্রি কমে গেছে। নতুন করে সবজি উঠতে শুরু করলে, আশা করা যায় এই দাম আরও কিছুটা কমে আসবে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team